এডভোকেট মো. আবদুল মন্নান:
প্রধানমন্ত্রী যখন বিরোধী দলীয় নেতাকে সম্মান করে কথা বলেন আর বিরোধীদলীয় নেতা যখন প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান করে কথা বলেন, তখন উত্তেজনা অর্ধেক এমনিতেই থেমে যায়।
সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ খালেদা জিয়াকে পায়ে ধরে সালাম করে দাঁড়িয়ে থাকেন, দেশের সম্মান এমনিতেই অনেক উঁচুতে চলে যায়।
খালেদা জিয়ার কথা বললে জাতি যখন ঐক্যমতো পৌঁছে। তখন সম্মানের জায়গাটা এমনিতেই তৈরি হয়ে।
হাসিনা অত্যাচারী শাসক ছিল। সন্দেহ নেই। কিন্তু আওয়ামী লীগে কিছু ভালো মানুষ ছিল। যেগুলো হাসিনার আমলেও কোনঠাসা ছিল। এখনো কোনঠাসা।
বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার অন্যতম স্থপতি ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষক ছিলেন। এগুলো নিয়ে সম্মান করার চাইতে আমরা বিতর্কই বেশি করেছি।
স্বাধীনতা লাভের ৫৫ বছর পরও আমরা চেতনার ব্যবসায়ী। না আছে উন্নয়ন, না আছে জাতীয় পরিকল্পনা, না আছে জাতি নিয়ে কোন ভাবনা। আছে শুধু নিজেদের আখের গোছানোর গল্প।
হাসনাত আব্দুল্লাহ, নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, সারজিস আলাম বা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাদের রাস্তায় পিটাতে হবে কেন? তারাইবা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করবেন কেন?
সরকারি দলের দায়িত্ব থাকে অনেক বেশি। এক সময় রাজনীতি ছিল কে কাকে কত বেশি ভালোবাসতে পারে, যাতে ভালোবাসার টানে জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পায়। এখন কে কিভাবে ক্ষমতা দেখাবে, জমি দখল করবে, চাঁদাবাজি করবে, নব্য ফ্যাসিস্ট সৃষ্টি হয়ে উঠবে, তার যেন এক নীরব প্রতিযোগিতা চলছে। সাধারণ মানুষ সবসময় অসহায়। এখনো অসহায়।
মামলার দান বক্স বা মামলা বাণিজ্য আগেও ছিল, এখন আরো বেড়ে গেছে। কথা ছিল বন্ধ হওয়ার। অথচ হয়েছে ঠিক তার উল্টোটা। আওয়ামী লীগ করলে মামলা কেন খেতে হবে? আওয়ামী লীগ করে অপরাধ করলেই তো মামলা খেতে হবে। কিন্তু আমরা পরমতের প্রতি যে অশ্রদ্ধাশীল সেটা আবারও প্রমাণ হয়, নিরীহ মানুষদেরকে আসামি করে।
মানুষের জন্য নিয়ম অনিয়ম। নিয়ম নিয়মের জন্য মানুষ নয়। সরকারি বেসরকারি কোন অফিসে গেলেই আপনাকে নিয়মের গ্যাড়াকলে পড়তেই হবে। যদি টাকা দেন তাহলে সব জায়েজ। কিন্তু এমন তো হওয়ার কথা ছিল না। কথা ছিল সবাই শান্তিতে থাকবে, পরস্পর শ্রদ্ধাশীল হবে। কিন্তু হয়েছে ঠিক তার উল্টোটা।
পৃথিবীতে কোন জাতি তার স্বাধীনতা নিয়ে এত গল্প দেখে নাই। তারা সবাই মিলে একটা সময় ঐক্যবদ্ধ হয়েছে জাতির উন্নয়নে। কিন্তু আমরা সবসময় বিভক্তির দিকে অগ্রসর হয়েছি। এখনো হচ্ছি।
আমাদের সবই আছে। কিন্তু ভালোবাসার প্রচন্ড অভাব। একটা জাতি ভালোবাসা ছাড়া কোনভাবে বাঁচতে পারে না। সুন্দর আচরণ ও ভালোবাসা দিয়ে সবকিছু জয় করা যায়।
এটা যদি আমাদের নেতৃত্ব, আমলা, বিচার বিভাগ, সচেতন জনগোষ্ঠী বুঝে কেবল তখনই মুক্তি। না হয় অস্থিরতাই হবে এ জাতির বড় পুঁজি।
এডভোকেট মো. আবদুল মন্নান
সভাপতি, কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতি।
